আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস স্লো হয়ে গেছে এবং বারবার ল্যাগ করছে? চিন্তার কোন কারণ নেই? আপনি এখানে জানানো কিছু টিপস ব্যবহার করে আবার আপনার ডিভাইসের স্পিড এবং পারফরম্যান্স ইমপ্রুভ করতে পারবেন।

একটা স্লো অ্যান্ড্রয়েড ফোন অবশ্যই একটা চিন্তার কারণ হতে পারে যখন আপনি ল্যাগ, দেরিতে অ্যাপ লঞ্চ হওয়া এবং স্লো পারফরমেন্সের সম্মুখীন হন।

বর্তমান সময়ে আমরা অনেকটাই সময় আমাদের android ডিভাইসের সঙ্গে দিয়ে থাকি সেটা মনোরঞ্জনজনিত কারণ হোক অথবা কোন কাজের ক্ষেত্রে।

এবং সেই সময় যদি আপনি আপনার ডিভাইসকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি বিরক্তিবোধ করবেন।

তাই আজকের এই স্টেপ বাই স্টেপ বাই টিউটোরিয়ালে আমি আপনাদেরকে কিছু ওয়ার্কিং টিপস এবং tricks শেয়ার করব অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের স্পিড বাড়ানোর জন্য যেটা আপনার ওভারঅল ইউজার এক্সপেরিয়েন্সকে অনেকটা ইমপ্রুভ করবে।

তো বন্ধুরা জেনে জেনে নিন অ্যান্ড্রয়েড ফোনের স্পিড বাড়ানোর প্রয়োজনীয় কিছু টিপস:

কিভাবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের স্পীড বাড়ানো যায় (how to speed up android phone)

1) অপ্রয়োজনীয় এপ্লিকেশন আনইন্সটল করুন

আপনার ডিভাইসে যদি অনেক অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল থাকে তাহলে সেটা আপনার ফোনের পারফরম্যান্স কে অনেকটা স্লো ডাউন করতে পারে।

এজন্য অবশ্যই আপনি চেক করুন যে অপ্রয়োজনীয় কি কি অ্যাপ্লিকেশন আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ইন্সটল রয়েছে। এবং তারপর একের পর এক সেটিকে আনইন্সটল করে মেমোরিকে বা স্টোরেজ স্পেস কে ফ্রি আপ করুন।

2) মোবাইলটি রিস্টার্ট করুন

আপনি হয়তো ভাবছেন যে ডিভাইস রিস্টার্ট করার ফলে কিভাবে স্পিডে বা পারফরমেন্সে পরিবর্তন আসবে?

অনেক সময় আমরা আমাদের এন্ড্রয়েড ডিভাইসে কাজের ক্ষেত্রে একের পর এক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে থাকি এবং সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে। যেটা একটা সময় এসে ফোনের পারফরমেন্সটাকে অনেকটা স্লো ডাউন করে দেয়।

এবং আপনি যদি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসটিকে রিস্টার্ট করেন তাহলে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা সমস্ত অ্যাপ্লিকেশনগুলি বন্ধ হয়ে যায় এবং পারফরমেন্সের একটা ইমপ্রুভমেন্ট দেখতে পাওয়া যায়।

3) স্টোরেজ স্পেস খালি করুন

যদি আপনার ফোনের ইন্টারনাল মেমরিতে স্পেস খালি না থাকে তাহলেও এন্ড্রয়েড ফোন ল্যাগ করার ইস্যু আসতে পারে। চেষ্টা করবেন স্টোরেজ স্পেস সবসময় 20% খালি রাখতে।

তাই এর জন্য আপনি আপনার ফাইল ম্যানেজার থেকে আননেসেসারি ফটো, ভিডিও, ফাইল, অথবা কোন আননেসেসারি এপ্লিকেশন কে ডিলিট করে স্টোরেজ স্পেস খালি করতে পারেন।

4) অপারেটিং সিস্টেমকে আপডেট করুন

অনেক সময় ডিভাইস ম্যানুফ্যাকচারার পারফরম্যান্স ইমপ্রুভমেন্ট এর জন্য android ডিভাইসে বিভিন্ন ধরনের আপডেট দিয়ে থাকে।

এই আপডেট করার পর আপনার ডিভাইসে থাকা bug ফিক্স হয় ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয় এবং পারফরম্যান্সেও অনেকটা ইমপ্রুভমেন্ট দেখতে পাওয়া যায়।

তাই আপনি যদি চেক করতে চান যে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে কোন লেটেস্ট ভার্সনের আপডেট এসেছে কিনা এর জন্য সেটিংস অপশনে গিয়ে সিস্টেম আপডেট অপশনটি সিলেক্ট করে চেক করতে পারেন।

5) ইনস্টল অ্যাপ কে লেটেস্ট ভার্শনে আপডেট করুন

আপনি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে যে সমস্ত এপ্লিকেশন ইন্সটল করে রেখেছেন সেগুলিও সময় সময় আপডেট করাটা জরুরী।

এতে অ্যাপ্লিকেশন গুলি সঠিকভাবে কাজ করে এবং আপনার ডিভাইসকে স্লো করেনা।

Android ডিভাইসে এপ্লিকেশনগুলিতে লেটেস্ট ভার্সন এ আপডেট করার জন্য আপনি play store এর সাহায্য নিতে পারেন। এবং play store থেকে খুব সহজেই আপনার ফোনে ইন্সটল করা অ্যাপসের যদি আপডেট থাকে সেটিকে ইন্সটল করতে পারেন।

এর জন্য প্লে স্টোর খুলুন উপরে ডানদিকে একাউন্ট আইকনের ট্যাপ করুন তারপর ম্যানেজ এপ্স এন্ড ডিভাইস অপশনটি সিলেক্ট করুন।

6) হোমস্ক্রিন অপটিমাইজ করুন

আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে যদি আপনি কোন লাইভ ওয়ালপেপার এবং অন্য থার্ড পার্টি উইজেটস ব্যবহার করে থাকেন তাহলে এটা আপনার সিস্টেমের ভ্যালুয়েবল রিসোর্সকে অনেকটাই কনজিউম করে।

তাই আপনার হোমস্ক্রিনে স্ট্যাটিক ওয়ালপেপার ব্যবহার করুন এবং আননেসেসারি যদি উইজেট আপনি ব্যবহার করে থাকেন সেটাকে রিমুভ করুন।

7) অ্যানিমেশন অপটিমাইজ করুন

উপরে বলা সমস্ত টিপস ব্যবহার করার পরেও যদি আপনার পারফরমেন্সে ইমপ্রুভমেন্ট না দেখতে পান তাহলে আপনি আপনার ডিভাইসের এনিমেশনসকে অপটিমাইজ করতে পারেন।

আমরা যখন কোন অ্যাপস ওপেন করি অথবা মাল্টিপল উইন্ডো ব্যবহার করি তখন আপনি দেখেছেন বিভিন্ন অ্যানিমেশনের সাহায্যে ওই উইন্ডো গুলো আমাদের সামনে আসে।

তো যদি আপনার ডিভাইসে পারফরম্যান্স খুবই স্লো হয়ে থাকে তাহলে আপনি অ্যানিমেশন অপটিমাইজ করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ডেভলপার অপশনের প্রয়োজন পড়বে।

সেটিং অপশন এ যান এবাউট ফোন অপশন ক্লিক করুন। তারপর বিল্ড নাম্বারের উপর মাল্টিপল টাইমস ট্যাপ করুন তাহলে ডেভলপার অপশন ওপেন হয়ে যাবে।

এবং ওই ডেভেলপার অপশনে আপনি ভিজিট করে এনিমেশন স্পীড আপনি কমাতে পারেন অথবা বন্ধ করতে পারেন।

8) বিভিন্ন এপ্লিকেশনের লাইট ভার্সন ব্যবহার করুন

যদি আপনার এন্ড্রয়েড ডিভাইসটি লো এন্ড অথবা কম RAM এবং স্টোরেজ যুক্ত হয় তাহলে আপনাকে অবশ্যই লাইট ভার্সনের অ্যাপস ব্যবহার করা উচিত।

বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন যেমন facebook এর লাইট ভার্সন এর অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে যেটার ব্যবহার আপনি করতে পারেন।

9) ফ্যাক্টরি রিসেট

যদি উপরের সমস্ত পদ্ধতি ফলো করার পরেও আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের পারফরমেন্সে কোন পরিবর্তন না আসে তাহলে শেষ উপায় হল ফ্যাক্টরি রিসেট।

আপনার আন্ড্রয়েড ডিভাইসটিকে ফ্যাক্টরি রিসেট করার ফলে ফোনের মধ্যে থাকা সমস্ত মিডিয়া, ইনস্টল অ্যাপস, এবং সমস্ত ডাটা মুছে যাবে।

এবং মোবাইল নতুন কেনার সময় আপনি যেরকম ইন্টারফেস পেয়েছিলেন সেই জায়গায় চলে আসবে। তাই মোবাইলটিকে ফ্যাক্টরি রিসেট করার আগে অবশ্যই আপনার প্রয়োজনীয় ডেটাকে ব্যাকআপ নিয়ে রাখবেন।

মোবাইলটি ফ্যাক্টরি রিসেট করার জন্য সেটিং অপশনে যান > সিস্টেম > রিসেট অপশনস > ফ্যাক্টরি রিসেট।

Final word

আপনি যদি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস এর স্পিড এবং পারফরম্যান্স ইমপ্রুভ করতে চান তাহলে উপরে বলা টিপস গুলো ফলো করে খুব সহজেই এটি করতে পারেন।

বহুদিন ব্যবহারের ফলে অথবা সফটওয়্যার আপডেট না থাকার কারণে আমাদের ডিভাইসে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখতে পাওয়া যায়।

তাই সব সময় চেষ্টা করবেন আপনি যে সমস্ত অ্যাপ্লিকেশনগুলি ব্যবহার করেন সেটিকে লেটেস্ট ভার্সনে আপডেট রাখতে এবং আপনার ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেমকেও সময়ে সময়ে আপডেট রাখতে।

লেটেস্ট টেকনোলজি আপডেট, কিভাবে গাইড, ও এই ধরনের টিপস এবং ট্রিকস পাওয়ার জন্য আপনি আমাদেরকে ফলো করতে পারেন।